কুরআনের প্রতি ভালবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

0
143

পবিত্র কুরআনের প্রতি ভালবাসা

ছেলেবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল নিজ হাতে লিখবেন পুরো কুরআন শরিফ। সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরই সে স্বপ্ন পূরণ করলেন। পুরো কুরআন শরিফ নিজ হাতে লিখলেন বাষট্টি বছর বয়সী মুহাম্মদ আবদুল মকসুদ মুহাম্মদ।

মিশরের মানফালুত শহরের একটি মক্তবে কুরআনের হাফেজ হন। মক্তবের শিক্ষক রোজ ছাত্রদেরকে প্রতিদিনের মুখস্ত করা অংশ স্লেটে লিখতে বলতেন। কুরআন শরিফের মান, নকশা ও লিখনপদ্ধতির হুবহু অনুকরণে লেখার তাগিদ দিতেন। এতে তিনি মুগ্ধ হন। হৃদয়ে অঙ্কিত হয়ে যায় এ পদ্ধতি। সিদ্ধান্ত নেন হিফজ শেষ করে এভাবে পুরো কুরআন শরিফ লিখবেন নিজ হাতে।

সৌদি আরবভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম আল আরাবিয়ার আরবি ওয়েবসাইটকে আবদুল মকসুদ বলেন, মানফালুত শহরে তিনি মানি চেঞ্জার হিসেবে কাজ করতেন। অবসর গ্রহণের কয়েক মাস আগে সিদ্ধান্ত নেন পবিত্র কুরআন লেখার আজীবন লালিত স্বপ্ন এবার বাস্তবায়ন করবেন। মুখস্ত যাতে ভুলে না যান সে জন্য তিনি রোজ সময় বেঁধে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। তারপর আড়াই বছরের নিমগ্ন সাধনায় জীবনের সবচেয়ে অমূল্য স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হন।
দৈনিক এশার নামাজের পর তিনি কুরআন লিখতে বসতেন। টানা এক থেকে দেড়ঘণ্টা লিখতেন। সাধারণ কলম এবং মিশরীয় বাজারে সহজলভ্য উপকরণ দিয়েই লিখতেন। দুই-তিন পৃষ্ঠা লিখতেন। যখন অবসাদ লাগত, অনুলিপি করা পৃষ্ঠাগুলো ভাঁজ করে রেখে দিতেন। মার্জিনের নকশা হিসেবে তিনি ব্যবহার করেছেন সবুজ কালির কলম। আয়াত নাম্বার লিখেছেন কালো কালিতে। আর আরবি হস্তলিপির উসমানি রীতিতে। তারপর পূর্ণ তিন খণ্ডে একত্রিত করেছেন লিখিত পৃষ্ঠাগুলো। বিশ্বখ্যাত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ আলেমগণ তার লেখা পুরো কুরআন রিভিউ করেছেন। তারা কোনো ত্রুটি খুঁজে পাননি।
আবদুল মকসুদ জানিয়েছেন, লেখার সময় তিনি বিরাট সৌভাগ্য অনুভব করতেন। অনুভব করতেন তার ওপর শান্তি, প্রশান্তি ও মানসিক সুখ অবতীর্ণ হচ্ছে। লেখার সময়গুলোই তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ও সৌভাগ্যমণ্ডিত মুহূর্ত। কুরআন লেখার বিনিময়ে তিনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here