এরশাদের কাছে ৭৩ আসন চায় ইসলামী ফ্রন্ট

0
639
এরশাদের কাছে ৭৩ আসন চায় ইসলামী ফ্রন্ট
এরশাদের কাছে ৭৩ আসন চায় ইসলামী ফ্রন্ট

এরশাদের কাছে ৭৩ আসন

চায় ইসলামী ফ্রন্ট

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের কাছে ৭৩টি আসন চেয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। এরই মধ্যে এরশাদের হাতে আসনগুলোর একটি তালিকাও জমা দিয়েছেন জোটের শরিক দলটির নেতারা। এসব আসনের প্রতিটিতে তিনজন করে সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও জমা দিয়েছেন ফ্রন্টের নেতারা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সম্মিলিত জাতীয় জোট এককভাবে নির্বাচনে গেলেই এসব আসন চায় ইসলামী ফ্রন্ট। এরশাদ মহাজোটের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করলে হিসাবটা হয়তো অন্য রকম হবে।

ইসলামী ফ্রন্টের চাওয়া আসনগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫টি, চট্টগ্রামে ৩৮টি, সিলেটে ১১টি, ময়মনসিংহে চারটি এবং রংপুর বিভাগে পাঁচটি আসন রয়েছে। খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে কোনো আসন চায়নি দলটি।

আসন চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন সমকালকে বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে আমরা জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করেছি।

তাই আগামী নির্বাচনে জোটপ্রধানের কাছে আমরা ৭৩টি আসন চেয়েছি। এরই মধ্যে জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে আমরা আসনগুলোর তালিকা জমা দিয়েছি। এটি অবশ্য আমাদের প্রস্তাবনা মাত্র। আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তবে জাতীয় পার্টি বলছে, শুধু আসন চাইলেই হবে না। যে আসনগুলো চাওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে ইসলামী ফ্রন্টসহ জোটভুক্ত দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কার জনপ্রিয়তা কতটুকু, সেটাই হবে বড় বিবেচ্য বিষয়।

সূত্র জানায়, আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখনই পছন্দের আসনগুলো নিশ্চিত করতে চায় ইসলামী ফ্রন্ট। এ জন্য কয়েক দিন ধরে জোটের নেতৃত্বদানকারী দল জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ইসলামী ফ্রন্টের নেতারা।

এ ব্যাপারে জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, ‘জোটভুক্ত দলগুলোর সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এলাকায় কার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, সেটা বিবেচনা করেই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে ইসলামী ফ্রন্ট যেহেতু আমাদের জোটের অন্যতম শরিক দল, তাই আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আলোচনার মাধ্যমেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ইসলামী ফ্রন্টের প্রস্তাবনায় থাকা আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ঢাকা-৭, ৮, ৯, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৮; গাজীপুর-১, ২ ও ৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-১, ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর আসন। চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম-২, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৬; কক্সবাজার-১, ২, ৩ ও ৪; রাঙামাটি, চাঁদপুর-১, ২, ৩, ৪ ও ৫; কুমিল্লা-২, ৩, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ এবং ফেনী-১, ২ ও ৩ নম্বর আসন। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার-১, ২, ৩ ও ৪, হবিগঞ্জ-১, ২, ৩, ও ৪, সিলেট-১, ২ ও ৩ নম্বর আসন। ময়মনসিংহ বিভাগের কিশোরগঞ্জ-২, ৪ ও ৬, নরসিংদী-৩ এবং রংপুর বিভাগের রংপুর-১ ও ৩, নীলফামারী-১ ও ২ ও লালমনিরহাট-২ নম্বর আসন রয়েছে।

স্বাধীনতার চেতনা এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে গত ৭ মে গঠিত হয় সম্মিলিত জাতীয় জোট। প্রাথমিকভাবে জাতীয় পার্টি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল ইসলামী ফ্রন্ট, ৩৪টি ইসলামপন্থি সংগঠনকে নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা ‘জাতীয় ইসলামী মহাজোট’। এরশাদের নতুন জোটে আরও রয়েছে ২০১৫ সালে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে গড়া এবং পরে তাকেই অব্যাহতি দেওয়া ৩১ সংগঠনের ‘বাংলাদেশ জাতীয় জোট’। আর এই জোটের ব্যানারে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here