মুসলিম হলে ছাত্রসেনার ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ সম্পন্ন

0
297
মুসলিম হলে ছাত্রসেনার ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ সম্পন্ন
মুসলিম হলে ছাত্রসেনার ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ সম্পন্ন

মুসলিম হলে ছাত্রসেনার ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে

ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান
রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা উঠা-নামার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত
হওয়ায় ছাত্র রাজনীতির গৌরব-ঐতিহ্য আজ ভুলন্ঠিত
_____________________________

সংগ্রাম গৌরব ঐতিহ্যকে ধারণ করে ৩৮ বছর ধরে ছাত্র
রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ধারা সৃষ্টি করেছে ছাত্রসেনা-সৈয়দ বদরুদ্দোজা বারী
______________________________

সুন্নি মতাদর্শের আলোকে গণমুখী ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এবং শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় থাকা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ২১ জানুয়ারি রবিবার চট্টগ্রামসহ সারা দেশে পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে।

সকাল ৯টায় মোমিন রোডের কার্র্যালয়ে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০ টায় হযরত শাহ আমানত (রহ.) মাজার শরিফ প্রাঙ্গণে খতমে কুরআন মজিদ ও মিলাদ এবং দুপুর ১ টা হতে নগরীর মুসলিম হলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরে বিকেলে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি ছাত্রনেতা হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে মুসলিম হলের ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান। উদ্বোধক ছিলেন বারীয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদনশীন পীরে তরিকত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা বারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট যুগ্ম মহাসচিব স উ ম আব্দুস সামাদ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, ছাত্রসেনার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাওলানা আবু তৈয়্যব মুহাম্মদ আব্দুল হাই, ইসলামী ফ্রন্টের প্রচার সচিব মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তৈয়্যব আলী, সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা মাওলানা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ্, আঞ্জুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন ইউএই’র চেয়ারম্যান মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী, মদিনা মনওয়ার শাখার সভাপতি মাওলানা করিম উদ্দিন নুরী, চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ নঈম উল ইসলাম, উত্তর জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ এনামুল হক ছিদ্দিকী, যুবনেতা এডভোকেট এডিএম আরুছুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সাধারণ সম্পাদক এইচ এম শহীদুল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা এম এ মান্নান বলেছেন, বড় কয়েকটি দলের ক্ষমতায় উঠা-নামার সিঁড়ি হিসেবে এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে অঙ্গ ছাত্র সংগঠনগুলো। আদর্শ-নীতি-নৈতিকতা চলমান ছাত্র রাজনীতিতে উপেক্ষিত থেকে গেছে। অথচ বায়ান্ন, বাষট্টি, ঊনসত্তর ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজ ও ছাত্র সংগঠনগুলোই ছিল প্রধান শক্তি ও উজ্জ্বীবনের প্রেরণা। সেই সংগ্রাম, গৌরব ও ঐতিহ্য আজ ভূলণ্ঠিত ও ম্লান হয়ে পড়েছে। আল্লামা মান্নান বলেন, কয়েকটি দলের ক্ষমতায় উঠা-নামার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ছাত্র রাজনীতি আজ পথ হারিয়ে গভীর অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে। এই অন্ধকার পথ থেকে ছাত্র রাজনীতিকে পরিচ্ছন্ন সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। অবক্ষয়পুষ্ট ছাত্র রাজনীতির চলমান ধারার সম্পূর্ণ বিপরীতে আদর্শিক শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে ৩৮ বছর ধরে পরিচ্ছন্ন সুস্থ্য ধারার ছাত্র রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নন্দিত জাতীয় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা। তিনি আরো বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা ও সংশয় রয়ে গেছে। বর্তমান সরকার একটি গ্রহণযোগ্য বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হলে দেশে রাজনৈতিক সংকট ও সহিংসতা দানা বেঁধে উঠবে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই, আগামী জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে এখনই সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে হবে সরকার ও প্রধান বিরোধী জোটকে।

নিত্যপণ্যের দাম জনগণের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাওয়ায় জনভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চাল-শাক সবজির দাম বাজারে আকাশছোঁয়া। অথচ দরিদ্র কৃষকরা কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য বোধ ও সিন্ডিকেট বাণিজিক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আগামী দিনে চরম মূল্য দিতে হবে বলে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেন। চলমান ক্ষমতামুখী আদর্শবর্জিত রাজনীতির বিপরীতে জাতীয় রাজনীতিতে এবং ছাত্র রাজনীতিতে গুণগত ও নীতিগত পরিবর্তন আনতে সক্রিয় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার প্লাটফরমে আসতে ছাত্রজনতার প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান। উদ্বোধনী বক্তব্যে আল্লামা বদরুদ্দোজা বারী বলেন, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় না। ফলে মেধানির্ভর ছাত্র নেতৃত্ব ডানা মেলতে পারছে না। জাতীয় নেতৃত্বেও বিরাজ করছে সংকট ও শুণ্যতা।

ডাকসু, চাকসু, বাকসুসহ সকল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে আদর্শিক মেধাবী নেতৃত্বের শুণ্যতা পূরণের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মফিজুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক এস এম ইয়াছিন হোসাইন হয়দরী, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মঈনুল আলম চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আকতার হোসেন, আলহাজ্ব মুহাম্মদ হারুন সওদাগর, আহলে সুন্নাত সম্মেলন সংস্থা সদস্য মাওলানা ফজল আহমদ আলকাদেরী, অধ্যাপক সৈয়দ জামাল উদ্দিন, অধ্যক্ষ কাজী মাওলানা হারুন, মহানগর উত্তর ইসলামী ফ্রন্ট সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শফিউল আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ আলমগীর হোসাইন, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আমান উল্লাহ আমান, অর্থ সম্পাদক এস.এম. মামুনুর রশিদ জাবের, মুহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম, এম. ছগির আহমদ, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন কাদেরী, মুহাম্মদ ফরিদুল আলম,মুহাম্মদ আব্দুল কাদের রুবেল, মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম কাদেরী, মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, এম এ শাকুর, মুহাম্মদ ইলিয়াছ রেজা, মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, মুহাম্মদ শাহ জালাল, মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, মুহাম্মদ আলমগীর হোসাইন, মুহাম্মদ আজাদ রানা, মুহাম্মদ আলী আকবর, মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল রোমান, সৈয়দ মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম, মুহাম্মদ শাহেদুল আলম, হাফেজ মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, মুহাম্মদ মিনহাজুল আবেদীন, মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম, মুহাম্মদ শফিউল আলম প্রমুখ।

স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, স্কুল ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির ঘোষণার পর থেকেই মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ‘বড় ভাই’ কেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতির বলি হচ্ছে নিরীহ ছাত্র সমাজ। স্কুল ছাত্র রাজনীতির নির্মম শিকার মেধাবী শিক্ষার্থী আদনান। এই খুনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই আমরা। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এইচ এম শহীদুল্লাহ। এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার বলেন, ছাত্র রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল ও ক্যাম্পাস দখলের ছাত্র রাজনীতি দেশের ছাত্র সমাজ আজ প্রত্যাখ্যান করছে। ছাত্রসেনাই ছাত্রদের আশা ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে আজ। আল্লামা অধ্যক্ষ তৈয়্যব আলী বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের তৎপরতায় আমরা প্রশংসা করি। কিন্তু দেশের খুন-গুম-অপহরণে কারা জড়িত এই রহস্যও সরকারকে বের করতে হবে। পীরজাদা মাওলানা আশরফ শাহ্ বলেন, রাজনীতিকভাবে সচেতন হয়ে প্রিয় নবীর (দ.) আদর্শ বাস্তবায়নে সুন্নি ছাত্রজনতাকে আজ একই প্লাটফরমে আসতে হবে। এনামুল হক ছিদ্দিকী বলেন, ছাত্রসেনা ছাত্রদের হাতে তুলে দেয় বই ও কলম। জ্ঞানের শক্তিতে ছাত্রদের উজ্জীবন চাই আমরা। প্রধান বক্তা এইচ এম শহীদুল্লাহ বলেন, ক্ষমতার হাতছানি, লোভ প্রলোভন ছাত্রসেনাকে এতটুকু টলাতে পারেনি। সুনির্ধারিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে অবিচল থেকেছে ছাত্রসেনা আদর্শ ও জ্ঞানচর্চাই ছাত্রসেনার ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ছাত্র সমাবেশে উপস্থিতির জন্য সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সাধারণ ছাত্র সমাজই আমাদের প্রাণশক্তি। আপনাদের নিয়ে আগামী দিনে আমরা বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে চাই। সমাবেশ শেষে মুসলিম হল প্রাঙ্গণ থেকে বিশাল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী র‌্যালি বের হয়ে নিউমার্কেট, কোতোয়ালী, লালদিঘী, আন্দরকিল্লা হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করেন।
#chattrasenacentral #centralBif

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here