ছাত্রসেনার ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার

0
318

যারা পদ চায় তাদের পদ না দেওয়ার নীতি চাই

জননেতা এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার

যারা পদ বা নেতৃত্ব চায় তাদের পদ না দেওয়া –এটা ইসলামেরই নির্দেশ, সুতরাং এ নীতি বাস্তবায়নে রয়েছে অবারিত কল্যান, আর বিপরীতে রয়েছে ধ্বংস ও অপমান। তাই, কোন ইসলামি বা আধ্যাত্মিক সংগঠনে দরকার সর্বাগ্রে নেতা নির্বাচনের এ নীতি প্রতিষ্ঠা করা, যদিও সেটা এত সহজ হবেনা, বা সেটার কারণে কিছু পদলোভী সুবিধাবাদীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সব কিছু পন্ড করে দিতে চাইবে।

এরপরও, ইসলামি সংগঠনে ইসলামি নীতিকেই প্রতিষ্ঠার লড়াই চালাতে হবে। নির্লোভ কর্মি অবশ্যই আছে, যারা নেহায়েত আল্লাহর ওয়াস্তে, খালেস নিয়তে ইসলামি সংগঠনে কর্মি হয়েছে। কিন্তু সংগঠনে যদি এমন ইসলামি নীতির পরিবর্তে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, জাতিয়তাবাদী, নাস্তিক্যবাদীদের মত পদের দলাদলি প্রশ্রয় পায়, এবং পদলোভীরা পদে বসতে থাকে, তখন খালেস কর্মিরাও উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। তাদের কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে স্রোতে গা ভাসিয়ে দলাদলিতে লিপ্ত হয়, নতুবা নিষ্ক্রিয়তা অবলম্বন করে একসময় দূরে চলে যায়, অথবা বিরোধি হয়ে যায়। তাই,সনাক্ত করতে হবে পদলোভী, এবং পদের জন্য তদবিরে লিপ্তদের, যাতে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায়। কারণ, এটা ইসলামের নির্দেশ, আমাদের প্রিয় নবীপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ, যেমন এরশাদ হয়েছে —
-“আল্লাহর শপথ! আমরা এমন কোন ব্যক্তিকে কোন কাজের (পদের) দায়িত্ব দেইনা, যে এর জন্য প্রার্থী হয়, অথবা এর আকাঙ্খা করে (বুখারি ও মুসলিম)। সুতরাং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কি এমন পরিষ্কার ঘোষনা অামাদের জন্য যথেষ্ট নয় ?

হযরত আবু হোরায়রা (রা) বর্ণিত অপর হাদিস হল —–“অচিরেই তোমরা নেতৃত্ব ও হুকুমত লাভের অভিলাষী হবে।(মনে রেখ), কেয়ামতের দিন এটা তোমাদের জন্য লজ্জা ও অনুতাপের কারণ হবে” (বোখারি)। নেতৃত্বের প্রার্থী হবার কোন সুযোগ যে ইসলামে নাই সেটাই পরিষ্কার, সুতরাং এ থেকে কর্মিদের দূরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে, নেতৃত্ব নির্বাচনে এ নীতির কঠিন অনুশীলন নিশ্চিত করতে হবে। কর্মিরা ইসলামি সংগঠনে কাজ করবে, কিন্তু বিনিময়ে আল্লাহ্ -রাসুল ছাড়া ভিন্ন কিছু চাইবেনা। যদিও পদগুলো তাদের জন্যই সংরক্ষিত। এখানে নীতি হল, যে পদ চাইবেনা, পদের জন্য তদবিরে লিপ্ত নয় এমন আন্তরিক কর্মিদের বাছাই প্রক্রিয়া সারা বছর ধরে চালু রাখা, কর্মিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে পদলোভী -উচ্চাভিলাষীদের বর্জন করে, নির্লোভদের পদে বসিয়ে দেওয়া। এমন নির্লোভ অথচ আন্তরিক কর্মিরা তাদের কাজে আল্লাহর সাহায্য যেমন পায়, তেমন কর্মিদের সহযোগিতা ও পেতে থাকে। ফলে, সংগঠন দ্রুত সাফল্যের দিকে এগিয়ে যায়। বুখারি মুসলিম শরিফের অপর এক হাদিসে এরশাদ হয়েছে —“নেতৃত্বপ্রার্থী হয়োনা, কারণ প্রার্থী না হয়ে নেতৃত্ব পেলে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। পক্ষান্তরে প্রার্থী হয়ে নেতৃত্ব পেলে তোমার উপরই দায়িত্বের যাবতীয় বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হবে। “

একবার হযরত আবু যর গিফারি (রা) ‘র মত জলিলুল কদর সাহাবীকেও রাসুলেপাক সল্্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন —–হে আবু যর! তুমি দুর্বল মানুষ, এটা হচ্ছে এক বিরাট আমানত। এটা (নেতৃত্ব -কর্তৃত্ব) কেয়ামতের দিন লান্ঞ্চনা-গণ্জনা ও অনুতাপের কারণ হবে।অবশ্য যে ব্যক্তি এটাকে যথার্থভাবে গ্রহণ করে এবং দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে তার কথা স্বতন্ত্র (মুসলিম)।

মনে রাখতে হবে, নেতৃত্ব ও আনুগত্যের সামন্জস্যপূর্ণ বন্ধনের নামই সংগঠন। নেতাকে যেমন আনুগত্য লাভের যোগ্য হতে হবে, তেমনি যে কোন অবস্হাতেই কর্মিকে নেতার আনুগত্য করতে হবে। যেমন, এরশাদ হয়েছে, —তোমাদের কেউ যদি তার নেতার মধ্যে অপ্রীতিকর কিছু লক্ষ্য করে, তাহলে সে যেন ধৈর্যধারণ করে (বোখারি, মুসলিম)। ইসলাম আনুগত্যের উপর বেশি জোর দিয়েছে। কোরানে করিমে এরশাদ হয়েছে —–হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ ‘র আনুগত্য কর, আনুগত্য কর রাসুলের, এবং যারা তোমাদের উপর কর্তৃত্বশীল তাদের (সূরা নিসা :৫৯)।

সুতরাং মূমিনরা আনুগত্য করবে, বিদ্রোহ করবেনা এটাই চায় ইসলাম। কারণ, আনুগত্যে আছে শান্তি- শৃঙ্খলা, আর বিদ্রোহে আছে অরাজকতা, অশান্তি, অনৈক্য এমনবি ধ্বংস। ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে : প্রত্যেক মুসলমানের উপর (শাসক বা নেতার) নির্দেশ শ্রবণ করা ও আনুগত্য করা অবশ্য কর্তব্য, চাই তা তার পছন্দ হোক বা অপছন্দ হোক, যতক্ষণ পর্যন্ত না পাপাচারের আদেস দেওয়া হয়। পাপাচারের আদেশ শ্রবণ করা ও তার আনুগত্য করার কোনও অবকাশ নেই (বোখারি ও মুসলিম)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here